বেনগাজি: কট্টরপন্থী ইসলামী যোদ্ধারা বুধবার লিবিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম
শহর বেনগাজি দখল করে নিয়ে সেখানে ‘ইসলামিক এমিরেট’ ঘোষণা করেছে। এর আগে তারা বেনগাজিতে সেনাবাহিনীর ব্যারাক দখল করে
নিয়ে প্রচুর ভারী অস্ত্রশস্ত্র হস্তগত করেছে।
আনসার আল-শরিয়া নামের ওই কট্টরপন্থী ইসলামী সংগঠনটির মুখপাত্র মোহাম্মদ আল-জাহাবি রেডিও তাওহিদকে বলেন, ‘বেনগাজি এখন ইসলামিক এমিরেটে পরিণত হয়েছে।’
t;
আনসার আল-শরিয়ার বিরুদ্ধে ২০১২ সালে বেনগাজিতে মার্কিন কনস্যুলেটে হামলা চালিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূতসহ চারজনকে হত্যার অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে বেনগাজি দখলের পাশাপাশি বৃহস্পতিবার রাজধানীতে ভয়াবহ সংঘর্ষে জড়িয়েছে মিলিশিয়ারা। ফলে একাধিক দেশ ত্রিপোলিতে তাদের দূতাবাস থেকে স্টাফদের সরিয়ে নিচ্ছে।
কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা এই সংঘর্ষে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে যে দেশটি আবার গৃহযুদ্ধে অতল গহ্বরে নিক্ষিপ্ত হতে পারে।
২০১১ সালে সাবেক স্বৈরশাসক গাদ্দাফির পতনের পর থেকেই লিবিয়ায় একাধিক সশস্ত্র ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর উত্থান ঘটে। তারা বিভিন্ন এলাকা দখলের জন্য একে অপরের বিরুদ্ধেও লড়াই করছে।
তবে এবার বেশ সুবিধাজনক অবস্থায় আছে কট্টরপন্থী ইসলামী গোষ্ঠীগুলো।
লিবিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত মাসে ত্রিপোলি বিমানবন্দর দখলের লড়াই শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৭৯ জন নিহত এবং ৭০০ জন আহত হয়েছে।
এতে বিমানবন্দরের বেশিরভাগ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার পশ্চিম ত্রিপোলিতে বিক্ষিপ্তভাবে রকেট হামলা চালিয়েছে মিলিশিয়ারা। এতে বাসিন্দারা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
হামলায় এক পরিবারের চার শিশু ও তিন নারী নিহত হয়েছে।
এদিকে মিলিশিয়াদের হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার হাজার হাজার লোক ত্রিপোলির শহীদ স্কয়ারে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেছেন। তারা আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ত্রিপোলিতে জ্বালানি ও খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে এবং দাম বেড়ে যাচ্ছে।
প্রাণ বাঁচাতে ত্রিপোলি থেকে বৃহস্পতিবার ১০ হাজার লোক তিউনিশিয়ায় আশ্রয় নিয়েছে।
জানা গেছে, দুটো কারণে সম্প্রতি লিবিয়ায় সংঘর্ষ জোরদার হয়েছে। এর একটি হলো জুনের সংসদ নির্বাচনে আধিপত্য হারিয়েছে ইসলামপন্থীর। অন্যটি হলো যোদ্ধাদের আঞ্চলিক বিভাজন।
যেমন ত্রিপোলি বিমানবন্দর বর্তমানে নিয়ন্ত্রণ করছে পশ্চিমাঞ্চলীয় শহরে জিনতানের মিলিশিয়ারা। এখন এটি দখলের জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে পশ্চিমাঞ্চলীয় আরেক শহর মিসরাতার ইসলামপন্থী রাজনীতিকদের অনুগত যোদ্ধারা।
সূত্র: আল আরাবিয়া/এপি
No comments:
Post a Comment